
দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে জোরালো নীতি সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালক মো. হাসিব উদ্দিন।
বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক শিল্পের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশে তীব্র গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পোশাক শিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও কার্যকর নীতি সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
বৈঠকে আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। বিজিএমইএ সভাপতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্য গঠিত। বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এর আওতার বাইরে থাকা উচিত। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি শিল্পের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মালিকপক্ষের মতামত এবং দেশের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বৈঠকে পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিজিএমইএ নেতারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি ও বন্ড নীতি সহজীকরণ, এফওসি ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বন্ডেড ও নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পণ্য সরবরাহে বিদ্যমান জটিলতা দূর করা।
এ ছাড়া রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি ও পণ্য রপ্তানিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি, ‘আমদানি নীতি ২০২৪-২০২৭’ সংশোধন এবং সিআইপি মর্যাদা প্রদানের মানদণ্ড স্বয়ংক্রিয় করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের উত্থাপিত বিষয়গুলো শোনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি পোশাক শিল্পের সংকট নিরসনে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা বজায় রাখতে সব ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
আমার বার্তা/এমই

