
অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিয়মিত কর্পোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার (টিডিএস) কমিয়ে পূর্বের ন্যায় ৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটি মনে করে, এই প্রস্তাব দুটি বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে এনবিআরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়, অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিয়মিত করপোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে যারা ব্যাংকিং মাধ্যমে লেনদেন ও অন্যান্য কমপ্লায়েন্স পরিপালন করে তাদের জন্য এই হার কমিয়ে আনা উচিত। এক্ষেত্রে ব্যয়ের শর্তটি শিথিল রেখে শুধুমাত্র আয়ের শর্তটি পরিকরণ করা উচিত। তবে অবশ্যই কোম্পানির সব প্রকার রাজস্ব বা প্রাপ্তি ব্যাংক ট্রান্সফার বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে গ্রহণের শর্তআরোপ পরিপালন করতে হবে।
উৎসে কর নিয়ে ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাবনায় বলা হয়, আয়কর আইনের ধারা ১০৬ এর অধীন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অনুমোদিত সিকিউরিটিজের সুদ থেকে উৎসে কর কর্তনের হার (টিডিএস) পূর্বের ন্যায় ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা যেতে পারে। একইসঙ্গে এটি উৎস করের আওতা থেকে সম্পূর্ণ আওতামুক্ত করা উচিত।
সংগঠনটি আরও জানায়, যদি উৎস কর্তিত কর নির্ধারিত চূড়ান্ত কর দায় অপেক্ষা অধিক হয়, তাহলে করদাতার ইচ্ছানুযায়ী পরবর্তী করবর্ষে ক্যারি ফরোয়ার্ড করে সমন্বয় করা অথবা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (সর্বোচ্চ ৯০ দিন) রিফান্ড গ্রহণ করা যাবে। তবে একই অর্থের ক্ষেত্রে উভয় সুবিধা গ্রহণযোগ্য হবে না।
ঢাকা চেম্বার মনে করে, শর্ত সাপেক্ষে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার কমানো হলে এবং সিকিউরিটিজ সুদে উৎসে কর কমানো ও অতিরিক্ত কর্তিত করের রিফান্ড বা সমন্বয় সুবিধা প্রদান করা হলে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩৫০টি। উপরের সিদ্ধান্ত দুটি বাস্তবায়িত হলে অ-তালিকাভুক্ত আরও অনেকগুলো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হবে।
ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে প্রাক বাজেট প্রস্তাবনা আরও ৯টি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

