ই-পেপার শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২

গুম বন্ধ হলেও চলছে গণগ্রেপ্তার ও জামিন না দেওয়ার চর্চা

এইচআরডব্লিউ
আমার বার্তা অনলাইন
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে গুমসহ ভয়ভীতি ও দমন–পীড়নের যে পরিবেশ বাংলাদেশে বিরাজমান ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের এই আমলে তার কিছুটা অবসান ঘটলেও মব, গণগ্রেপ্তার ও জামিন না দেওয়ার চর্চা চলছে বলে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সংস্থাটির ভাষ্য, ২০২৪ সালে ক্ষমতা নেওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিশ্রুত মানবাধিকার সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যাপক হিমশিম খাচ্ছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হাজারো মানুষকে নির্বিচার আটকের অভিযোগও তুলেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ সম্পর্কিত সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য তুলে ধরেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঘোষিত মানবাধিকার সংস্কার বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরে ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহিংস কর্মকাণ্ড অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী অধিকার ও এলজিবিটিবিরোধী কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর উপস্থিতিও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত গণপিটুনিতে অন্তত ১২৪ জন নিহত হয়েছেন।

গণগ্রেপ্তার ও হেফাজতে মৃত্যু

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নির্বিচার আটকের যে চর্চা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিল, তা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও অব্যাহত রয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে কয়েক শ ব্যক্তিকে আসামি করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের শত শত নেতা, কর্মী ও সমর্থক হত্যা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে কারাবন্দী রয়েছেন। বিচার ছাড়াই আটকে থাকা এসব ব্যক্তির জামিন নিয়মিতভাবে নাকচ করা হচ্ছে। এই তালিকায় অভিনেতা, আইনজীবী, গায়ক ও রাজনৈতিক কর্মীরাও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছর শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে অন্তত ৮ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আরও অনেককে আটক করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশের পর নিরাপত্তা বাহিনী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। ঘটনার পর পুলিশ কয়েক শ আওয়ামী লীগ সমর্থককে আটক করে এবং ৮ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ১০টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যাঁদের অধিকাংশই অজ্ঞাতনামা। যদিও সরকার গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর অক্টোবর মাসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন নির্যাতনে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রায় ৮ হাজার মানুষ আহত এবং ৮১ জন নিহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা

প্রতিবেনে এইচআরডব্লিউ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনীর ক্ষমতা ব্যবহার করে গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে সরকার। এর ফলে দলটির সভা-সমাবেশ, প্রকাশনা এবং অনলাইনে সমর্থনমূলক বক্তব্য প্রচারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

২০২৫ সালে সাংবাদিকদের ওপর অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার অধিকাংশই রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সহিংস জনতার দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় লেখক ও সাহিত্যিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও আদালত ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

এইচআরডব্লিউ’র মতে, সাইবার নিরাপত্তা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অন্যায্য বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ সৃষ্টি করছে। গত বছরের মার্চে আইনের ৯টি ধারা বাতিল করা হলেও এখনও এমন কিছু বিধান রয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের আন্দোলনের সময় পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিল বলে ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন।

তবে, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রগতি সীমিত বলে মন্তব্য করেছে এইচআরডব্লিউ। জুলাই মাসে পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, আন্দোলন দমনে ভূমিকার জন্য মাত্র ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে, এই ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে কিছু উন্নতি হলেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রাখা এবং রাজনৈতিক সংগঠন বিলুপ্ত করার ক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংস্কার কার্যক্রমে স্থবিরতা

এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগ, নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, শ্রম ও নারী অধিকারসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য একাধিক কমিশন গঠন করে। তবে, রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাবে খুব কম সংস্কারই বাস্তবায়িত হয়েছে।

গত আগস্টে ‘জুলাই ঘোষণা’ এবং অক্টোবরে ‘জুলাই সনদ’ প্রকাশ করা হলেও সংস্কার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি সীমিত বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। এ ছাড়া নারী নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশ এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

আমার বার্তা /জেএইচ

বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতেই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন: শাহবাজ শরিফ

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজকে ইরানি নৌবাহিনীর ‘ধাওয়া’

বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী একটি তেল ট্যাংকারকে ‘ধাওয়া’ করে

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের পতন ঘটানোর ষড়যন্ত্র করেছিলেন এপস্টেইন

প্রকাশ্যে ও জনসমক্ষে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের অনুগত ডেপুটি। তিনি

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২২ সেনাসহ নিহত ২৫৫

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিন ধরে চলমান সামরিক অভিযানে ১৯৭ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টেকসই অর্থনীতি গড়তে নৈতিকতার চর্চা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে

নির্বাচন: এবার ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনোনয়ন

শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কুয়েটের দুই শিক্ষার্থী বহিষ্কার

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবেন তারেক রহমান

হাতপাখায় ভোট দিতে দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে: রেজাউল করীম

পরবর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মসৃণ করবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক: বঙ্গভবনের সেই কর্মকর্তার জামিন

গণভোটে হ্যাঁ মানে নতুন বাংলাদেশ, পুরোনা রাজনীতিকে লাল কার্ড

১১৬ আসনে ব্যালট পেপার পৌঁছেছে: ইসি সচিব আখতার

উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুদিনের জন্য বন্দরে আন্দোলন স্থগিত

বাংলাদেশে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় ইইউ

রমজানে অফিসের নতুন সময় নির্ধারণ

সেনাপ্রধানের ঢাকা মহানগরের ক্যাম্প পরিদর্শন, নির্বাচনে নিরপেক্ষ আচরণের নির্দেশ

নতুন চাঁদাবাজ ও দখলদাররাই দেশের নতুন জালেম: নাহিদ ইসলাম

যত দ্রুত সম্ভব অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব হস্তান্তর করবে: শফিকুল আলম

বোঝার বদলে পরবর্তী সরকারের কাজ কমিয়ে দিয়ে গেলাম: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রয়োজনে নির্বাচনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ, তবে আইনের বাইরে নয়: সেনাসদর

রাষ্ট্রপতির কাছে পে-কমিশন চেয়ারম্যানের প্রতিবেদন পেশ

শুধু নির্বাচনের দিন নয়, পরবর্তী দুই-তিন দিন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে

আন্দোলনরত কর্মচারীদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেব: সাখাওয়াত হোসেন