
কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে বলে জানিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
আজ রোববার দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাস-ট্রেন দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রেলওয়ের কোনো ধরনের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা সহ্য করা হবে না। দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
দুর্ঘটনার কারণ প্রসঙ্গে রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুই গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে তাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টেশনমাস্টারকেও জবাবদিহির আওতায় এনে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেল প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি বিভাগীয় ও একটি জোনাল তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তা প্রসঙ্গে রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রেলওয়ের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার বিষয়েও সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে রেল প্রতিমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সান্ত্বনা দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিগণ।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে নোয়াখালীগামী ‘মামুন স্পেশাল’ বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
আমার বার্তা/এমই

