
দেশে সারের কোনো সংকট নেই দাবি করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে নির্বাচিতরাই ওইসব জেলায় নিজ দলের কর্মীদের দ্বারা হইচই করে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। শুধুমাত্র জনগণের সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য রাজনৈতিক দলটি এই সংকট তৈরি করেছে।’
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শাহে আলম।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে জাতির কাছে জানাতে চাই, যেসব জেলায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে, সেইসব জেলাগুলো হচ্ছে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, মেহেরপুর ও নড়াইল। অর্থাৎ যেসব জেলা থেকে বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে নির্বাচিত হয়েছেন ঠিক ওই জেলাগুলোতেই তৈরি হয়েছে এই সারের সংকট। চট্টগ্রাম বিভাগের কোনো জেলায় স্যারের সংকট নেই, বগুড়াতেও স্যারের সংকট নেই, পাবনায়, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেটে সারের কোনো সংকট নেই।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘যেসব জেলায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, সেই সব জেলায় যারা সারের ডিলার রয়েছে, এর বাইরে আমরা নতুন করে ডিলার নিয়োগ দিচ্ছি, যাতে করে আর সংকট তৈরি করতে না পারে। প্রয়োজনে নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ডিলারদের গোডাউন চেক করা হবে, যাতে করে কেউ মজুত রেখে কোনো সংকট তৈরি করতে না পারে।’
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের শুরুর দিকে তেল এবং গ্যাস নিয়ে সমস্যা হয়েছে, এটা সরকার অস্বীকার করে না এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থেকে বিভিন্ন কারণে বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও সমস্যা করেছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে সাময়িক সমস্যার কারণে জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
‘তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। দাম না বাড়ালে এই তেল ভারতে পাচার হয়ে যেত। যার কারণে দাম বাড়ানো হয়েছে। এখনও সমান হয়নি ভারতের সঙ্গে। তাছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, বিশ্বে তেলের মূল্য কমে গেলে আমরাও সমন্বয় করে তেলের দাম কমিয়ে দেব।’
বিদ্যুৎ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ সমস্যা এটা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানে আমাদের সময় দিতে হবে। সরকারের ছয় মাসের মেয়াদে একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি, একটা অনির্বাচিত সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা নেওয়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুধু দায় ও সময় বাড়িয়েছে। তারা দেশের জন্য কোনো কাজ করেনি অথচ ছয় মাসের মাথায় এসে সরকারকে সহযোগিতা না করে ১১ দলীয় জোট ফুটবল কিংবা ক্রিকেট টিম বানিয়ে রংপুরে এসে যে লংমার্চ করে গেল এখান থেকে কি প্রাপ্তি হলো। তারা বলছে তেলের ক্রাইসিস রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন তাদের দুই হাজার গাড়ির জন্য কোথায় তেল পেল। লংমার্চ করে যদি তেল ও গ্যাসের সমাধান হতো তাহলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত লংমার্চ করত।’
পরে শাহে আলম বড়দরগার সংস্কার কাজ পরিদর্শন করে রংপুরে জেলার আইন-শৃঙ্খলা ও জেলার উন্নয়ন সভায় যোগ দেন। বিকালে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে কৃতি শিক্ষার্থীর জন্য আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এছাড়া জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশসাক ইসরাত জাহান, শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

