
পবিত্র কোরআনের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সুরা সুরা কাহাফ। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ১১০। পবিত্র কোরআনের ১৫তম পারায় অবস্থিত এই সুরা নিয়মিত তিলাওয়াতে অসংখ্য সওয়াবের কথা বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষত জুমার দিনে এ সুরা তিলাওয়াতের অনেক সওয়াব ও ফজিলত রয়েছে।
আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফ যেমনভাবে নাজিল হয়েছে সেভাবে পড়বে, তার জন্য কেয়ামতের দিন তা নূর (আলো) হবে। (শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ২২২১)
আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে সে দাজ্জালের ফেৎনা থেকে হেফাজত থাকবে। (মুসলিম, হাদিস : ৮০৯ )
সুরা কাহাফের আরবি আয়াত ও বাংলা উচ্চারণ :
বাংলা উচ্চারণ আরবি আয়াত
১. আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী আনঝালা ‘আলা-‘আবদিহিল কিতাবা ওয়ালাম ইয়াজ‘আল্লাহূ ‘ইওয়াজা। اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡۤ اَنۡزَلَ عَلٰی عَبۡدِہِ الۡکِتٰبَ وَلَمۡ یَجۡعَلۡ لَّہٗ عِوَجًا
২. কাইয়িমাল লিইউনযিরা বা‘ছান শাদীদাম মিল্লাদুনহু ওয়া ইউবাশশিরাল মু‘মিনীনাল্লাযীনা ইয়া‘মালূনাসসা-লিহা-তি আন্না লাহুম আজরান হাছানা। قَیِّمًا لِّیُنۡذِرَ بَاۡسًا شَدِیۡدًا مِّنۡ لَّدُنۡہُ وَیُبَشِّرَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ الَّذِیۡنَ یَعۡمَلُوۡنَ الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَہُمۡ اَجۡرًا حَسَنًا
৩. মা-কিছীনা ফীহি আবাদা। مَّاکِثِیۡنَ فِیۡہِ اَبَدًا
৪. ওয়া ইউনযিরাল্লাযীনা কা-লুত্তাখাযাল্লা-হু ওয়ালাদা। وَّیُنۡذِرَ الَّذِیۡنَ قَالُوا اتَّخَذَ اللّٰہُ وَلَدًا
৫. মা-লাহুম বিহী মিন ‘ইলমিওঁ ওয়ালা-লিআ-বাইহিম কাবুরাত কালিমাতান তাখরুজু মিন আফওয়া-হিহিম ইয়ঁইয়াকূলূনা ইল্লা-কাযিবা। مَا لَہُمۡ بِہٖ مِنۡ عِلۡمٍ وَّلَا لِاٰبَآئِہِمۡ ؕ کَبُرَتۡ کَلِمَۃً تَخۡرُجُ مِنۡ اَفۡوَاہِہِمۡ ؕ اِنۡ یَّقُوۡلُوۡنَ اِلَّا کَذِبًا
৬. ফালা‘আল্লাকা বা-খি‘উন্নাফছাকা ‘আলা আ-ছা-রিহিম ইল্লাম ইউ’মিনূ বিহা-যাল হাদীছিআছাফা। فَلَعَلَّکَ بَاخِعٌ نَّفۡسَکَ عَلٰۤی اٰثَارِہِمۡ اِنۡ لَّمۡ یُؤۡمِنُوۡا بِہٰذَا الۡحَدِیۡثِ اَسَفًا
৭. ইন্না-জা‘আলনা-মা-‘আলাল আরদি ঝীনাতাল্লাহা- লিনাবলুওয়াহুম আইয়ুহুম আহছানু ‘আমালা। اِنَّا جَعَلۡنَا مَا عَلَی الۡاَرۡضِ زِیۡنَۃً لَّہَا لِنَبۡلُوَہُمۡ اَیُّہُمۡ اَحۡسَنُ عَمَلًا
৮. ওয়া ইন্না-লাজা-‘ইলূনা মা-‘আলাইহা-সা‘ঈদান জুরুঝা। وَاِنَّا لَجٰعِلُوۡنَ مَا عَلَیۡہَا صَعِیۡدًا جُرُزًا
৯. আম হাছিবতা আন্না আসহা-বাল কাহফি ওয়ার রাকীমি কা-নূমিন আ-য়া-তিনা‘আজাবা। اَمۡ حَسِبۡتَ اَنَّ اَصۡحٰبَ الۡکَہۡفِ وَالرَّقِیۡمِ ۙ کَانُوۡا مِنۡ اٰیٰتِنَا عَجَبًا
১০. ইয আওয়াল ফিতইয়াতু ইলাল কাহফি ফাকালূ রাব্বানা আ-তিনা-মিল্লাদুনকা রাহমাতাওঁ ওয়া হাইয়ি’ লানা-মিন আমরিনা-রাশাদা। اِذۡ اَوَی الۡفِتۡیَۃُ اِلَی الۡکَہۡفِ فَقَالُوۡا رَبَّنَاۤ اٰتِنَا مِنۡ لَّدُنۡکَ رَحۡمَۃً وَّہَیِّیٴۡ لَنَا مِنۡ اَمۡرِنَا رَشَدًا
সুরা কাহাফের বাংলা অর্থ :
১. সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নিজ বান্দার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনও রকমের বক্রতা রাখেননি। ২. অবতীর্ণ করেছেন এক সরল-সঠিক গ্রন্থরূপে, মানুষকে নিজের পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার এবং যে মুমিনরা সৎকর্ম করে, তাদেরকে এই সুসংবাদ দেওয়ার জন্য যে, তাদের জন্য রয়েছে উৎকৃষ্ট প্রতিদান। ৩. যেখানে তারা বসবাস করবে সবসময়। ৪. এবং তাদেরকে সতর্ক করার জন্য, যারা বলে, আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করেছেন। ৫. এ বিষয়ে কোন জ্ঞানগত প্রমাণ না তাদের নিজেদের কাছে আছে আর না তাদের বাপ-দাদাদের কাছে ছিল। এটা অতি গুরুতর কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হচ্ছে। তারা যা বলছে তা মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়।
৬. তারা এ বাণীতে (কোরআনে) বিশ্বাস না করার কারণে মনে হচ্ছে (হে নাবী!) তুমি তার দুঃখে তোমার নিজের জান বিনাশ করে দেবে। ৭. জমিনের উপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোকে তার শোভা-সৌন্দর্য করেছি যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের ক্ষেত্রে কে উত্তম। ৮. নিশ্চয়ই আমি ভূপৃষ্ঠে যা-কিছু আছে, একদিন তা সমতল প্রান্তরে পরিণত করব। ৯. তুমি কি মনে করো গুহা ও রাকীমবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে (বেশি) বিস্ময়কর ছিল? ১০. এটা সেই সময়ের কথা, যখন যুবক দলটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল এবং (আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করে) বলেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি আপনার কাছ থেকে বিশেষ রহমত নাজিল করুন এবং আমাদের এ পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য কল্যাণকর পথের ব্যবস্থা করে দিন।
আমার বার্তা অনলাইন:

