
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার নোয়াগাও উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদ হোসেনের ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নোয়াগাও উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। উক্ত পদে তায়বুর রহমানসহ মোট চারজন প্রার্থী আবেদন করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের পছন্দের প্রার্থী তায়বুর রহমানকে নির্বাচিত করা হয়।
ভাইরাল ভিডিও ও ঘুষের দাবি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে প্রধান শিক্ষক অহিদ হোসেনকে অর্থ সংক্রান্ত দরদাম করতে শোনা যায়। সেখানে তিনি বলেন “১০ হাজার টাকা পেয়েছি, আরও ২০ হাজার টাকা দিও।”
ভুক্তভোগী তায়বুর রহমান জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার পর বিদ্যালয়ে নিয়োগপত্র নিতে গেলে প্রধান শিক্ষক তার কাছে 'খরচ বাবদ' ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। তায়বুর তাৎক্ষণিকভাবে ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু বাকি ২০ হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে না পারায় প্রধান শিক্ষক তার ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে দেন।
প্রধান শিক্ষক অহিদ হোসেন নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন খরচ মেটানোর জন্য ম্যানেজিং কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী তিনি টাকা চেয়েছিলেন। তায়বুর বাকি টাকা দিতে না পারায় কমিটির মাধ্যমেই তাকে ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (জীবন ভট্টাচার্য): তিনি জানান, আমি নতুন এসেছি অতিরিক্ত দায়িত্বে, আসার পর থেকে শুধু ঝামেলা শুনিতেছি, যে লোক চলতে পারে না সে লোক দিয়ে স্কুল কেমনে চালাব জোর করে।
নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি, এ বিষয়ে কোন কিছু জানি না।
জনমনে ক্ষোভ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বজায় রাখা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
আমার বার্তা/মো. রিমন খান/এমই

