ই-পেপার মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

আমার বার্তা অনলাইন:
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:২৫

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দলের সদস্যদের কঠোর সমালোচনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ তুলে ফজলুর রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন দফায় দফায় হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তব্যের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ফজলুর রহমান তার প্রতি করা ব্যক্তিগত মন্তব্যের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? যেমন বিরোধী দলের নেতা বলেন, উনাকে আমি অসম্মান করি না, সবসময় ‘মাননীয়’ বলে কথা বলি। কিন্তু উনার দলের লোকজন এখানে বসে আছে, তারা আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে কথা বলে। তারা নাকি সভ্য! তারা নাকি ইসলাম... এবং উনি যে বলতেছে... ওইদিন বলল যে.. আমার দাড়ি পাকা, আমার চোখের সমস্ত পাকা। উনি আমার চেয়ে ১০ বছরের ছোট। আমার বয়স ৭৮ বছর। আমি ৪৮ সনে জন্মগ্রহণ করেছি, উনি ৫৮ সনে জন্মগ্রহণ করেছে।

এ পর্যায়ে স্পিকার তাকে প্রশ্ন করেন, আপনাকে কি কেউ এই ধরনের উক্তি করেছে? এরকম তো সংসদে কেউ বলেনি। জবাবে ফজলুর রহমান বলেন, করেছে। স্পিকার পুনরায় বলেন, আপনি কেন নিজের গায়ে টেনে নিচ্ছেন? ফজলুর রহমান তখন জোর দিয়ে বলেন, করেছে।

স্পিকার তাকে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলে তিনি জামায়াতে ইসলামী ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করেন। ফজলুর রহমান বলেন, আচ্ছা, আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম, বিরোধীদলের নেতা বলেছেন উনি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করতেছে।

তার এই মন্তব্যের পরপরই সংসদে ব্যাপক হট্টগোল ও শোরগোল শুরু হয়। স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, মাননীয় সদস্যকে বলতে দেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ আপনারা শৃঙ্খলা রক্ষা করুন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করুন।

ফজলুর রহমান আবারও বলেন, আমি আবারো বলে রাখলাম, শহীদ পরিবারের লোক তো জামায়াত করতেই পারে না। আর জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ করতেছে।

ফজলুর রহমানের এসব বক্তব্যের যারা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন তাদের দেখিয়ে তিনি বলেন, এই যে দেখেন, তারা কী ধরনের আচরণ করছে আজকে!

স্পিকার তখন সংসদীয় রীতিনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মাননীয় সদস্য ফজলুর রহমান, অপেক্ষা করুন। এটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। এখানে প্রত্যেকেই নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। দয়া করে বসুন। মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, আমি বলি তারপর আপনি বলেন। মাননীয় সদস্যবৃন্দ, সারা জাতি দেখছে, লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। আমি প্রতিদিনই বলি যে ‘রুলস অফ প্রসিডিউর’ বইটা একটু পড়েন। যদি এই সংসদ বিধি মোতাবেক পরিচালিত না হয়, এটি আর জাতীয় সংসদ থাকবে না।

স্পিকার বলেন, প্রত্যেকেরই বাকস্বাধীনতা আছে। যদি সরকারি দলের কোনো সদস্যের বক্তব্যে আপনাদের আপত্তি থাকে, আপনারা এরপরে তার বিরুদ্ধে যুক্তি খণ্ডন করুন। কিন্তু এই যে শিশুরাও লজ্জা পাবে এই ধরনের আচরণে। ফজলুর রহমান সাহেব যা বলেছেন, এরপরেই আপনাদের একজনকে টাইম দেব।

এরপর ফজলুর রহমান আবারও বক্তব্য শুরু করে যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব ও ইনডেমনিটি ইস্যুতে কথা বলেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সনের ১৪ই ডিসেম্বরকে পালন করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সেই মুনীর চৌধুরী, আব্দুল আলীম চৌধুরী, শহীদুল্লাহ কায়সার থেকে ধরে শত শত বুদ্ধিজীবীকে যারা হত্যা করেছিল তাদেরকে বলা হয় আল-বদর। আমি খুব দুর্ভাগা, এই হাউজে প্রস্তাব হয়েছে, তাদের ব্যাপারেও শোক প্রস্তাব হয়েছে। আমি একা হলেও এটা প্রতিবাদ করতাম। ইতিহাস ভুল বার্তা যাবে যদি আমরা যুদ্ধাপরাধীর ব্যাপারে শোক প্রস্তাব নেই।

আরেকটা কথা, পুলিশের ব্যাপারে যে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে। ৫ই আগস্টের পরে যে থানা লুট হয়েছে, পুলিশ হত্যা হয়েছে, তারা তো তখন যুদ্ধ করেনি, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? ৫ই আগস্টের পরে যে ঘটনাগুলো হয়েছে সেগুলো তো কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা না। সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত।

শেষে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে এক সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, সর্বশেষ কথাটি হলো, আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি যাকে ভীষণ শ্রদ্ধা করি। দেশের ভিতরে যতই চক্রান্ত হোক, আমার নেতা সংসদ নেতা অনেক মহান কাজ করেছেন। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা আর মোহাম্মদী বেগ কিন্তু এক না। মোহাম্মদী বেগ কিন্তু সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করেছিল।

আমার বার্তা/এমই

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের প্রতীক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের একটি প্রতীক, এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে রক্ষা পেল মেরিন ড্রাইভের ৩ হাজারেরও বেশি গাছ

সড়ক সম্প্রসারণে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের ৪ লেনে সড়ক উন্নীতকরণ প্রকল্পের কারণে কেটে ফেলার ঝুঁকিতে থাকা

মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী-প্রধান উপদেষ্টা ৬ মাস ভিভিআইপি

মেয়াদ (দায়িত্ব হস্তান্তর বা পদত্যাগ) শেষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান উপদেষ্টা দেশের মধ্যে ছয় মাস

জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পর চাঁদাবাজি-দখল হ্রাস পেয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করায় অল্প সময়ের মধ্যে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত আত্মবিশ্বাসের প্রতীক

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ না করার ইঙ্গিত ট্রাম্পের: সিএনএন

জুলাই হত্যা মামলায় ইনুর পক্ষে পঞ্চম দিনের যুক্তিতর্ক শেষ

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে রক্ষা পেল মেরিন ড্রাইভের ৩ হাজারেরও বেশি গাছ

ইরানি হামলা মোকাবিলায় সৌদিতে উপসাগরীয় নেতাদের বৈঠক

মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী-প্রধান উপদেষ্টা ৬ মাস ভিভিআইপি

মিয়ানমারমুখী পাচার সিন্ডিকেটে রোহিঙ্গা সম্পৃক্ততা, আটক ১৪ জন

নিয়োগ বাণিজ্যের ভিডিও ভাইরাল: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

ইউরেনিয়াম লোডিংয়ের মাইলফলকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের পর চাঁদাবাজি-দখল হ্রাস পেয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সর্তকতা জারির পরদিনই শাহজালালের রানওয়েতে ঢুকে গেলেন যুবক

সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়, উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিশ্বের ৩৩তম বাংলাদেশ

গণঅভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা অন্যায়: ফজলুর রহমান

থানায় মামলা করতে গিয়ে হয়রানি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে

জ্বালানি লোডিং শুরু, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকারে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারই স্বাস্থ্য খাতের বড় সংকট: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার হুমকির ভিত্তি নেই: র‌্যাব