
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি ভেঙে ও ছিঁড়ে ফেলেছেন এক প্রবীণ শিক্ষার্থী। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
ওই শিক্ষার্থীর নাম আবু তৈয়ব হাবিলদার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত বলে দাবি করেছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে ডাকসু ভবনের সংগ্রহশালায় আসেন আবু তৈয়ব হাবিলদার। সেখানে অবস্থানকালে একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি সংগ্রহশালায় থাকা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি একক ছবি ভেঙে ফেলেন।
এরপর ফ্রেম থেকে ছবিটি বের করে তা ছিঁড়ে ফেলেন। পরে তিনি আরো দুটি ছবি মেঝেতে আছড়ে ভাঙেন এবং একইভাবে ফ্রেম থেকে বের করে সেগুলোও ছিঁড়ে ফেলেন।
এ ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘যা মন চায় তা করতে দেওয়া হবে না। কেন এই খলনায়কের ছবি ডাকসুতে থাকবে না।
তাদের ইশতেহারে কি ছিল, তারা ডাকসুর মতো এমন জায়গাতে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে প্রতিষ্ঠিত করবে। বলেছিলেন কি, জিন্নাহকে আপনারা আপনাদের নায়ক বানাবেন? আমরা ’৭১, ভাষা সংগ্রাম ভুলি নাই।’
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের উদ্দেশে আবু তৈয়ব হাবিলদার বলেন, ‘সাদিক কায়েম, তুমি কি উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাও?’
তিনি আরো বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের মূল নায়ক হিসেবে পরিচিতি আবুল কাসেম। উনার নেতৃত্বে ১১ মার্চ, ১৯৪৮ হরতাল পালন হয়েছিল। সেখানে অনেক ছাত্র গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, দুই হাজারের ওপরে।
সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।’
উল্লেখ্য, আবু তৈয়ব হাবিলদার এর আগে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সবচেয়ে প্রবীণ প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে, ডাকসুর সংগ্রহশালায় ভাঙচুরের এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। এক বার্তায় তিনি জানান, ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে আজ বিকেল ৪টায় ডাকসু ভবনের সামনে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি।

