
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আমিন। প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি।
আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও গ্রীনলিফের উপদেষ্টা কৃষান ভূঁইয়া, কাচ্চি ডাইনের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন তালুকদার (মিন্টু তালুকদার), রয়েল লাইফ ইন্টারন্যাশনাল রিয়েল স্টেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, ড. আনোয়ার উজ্জামান এবং সততা জুয়েলার্সের চেয়ারম্যান আরিফ হোসাইনসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এবারের আসরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আজীবন সম্মাননা প্রদান। বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নূতন এবং নৃত্যগুরু মুনমুন আহমেদকে তাদের দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অভিনেত্রী ও মডেল কেয়া পায়েলের মা চম্মা বেগম ‘রত্নগর্ভা মা’ এবং অভিনেতা শাহরুখ ফারদিন সুব্রত ‘সফল বাবা’ সম্মাননায় ভূষিত হন।
সম্মাননা পাওয়া তারকাদের তালিকায় আরও ছিলেন অভিনেতা ওমর সানি, সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী, অভিনেতা মোশাররফ করিম, রোবেনা রেজা জুই, অভিনেত্রী তানজিন তিশা, কেয়া পায়েল, চিত্রনায়ক নিরব হোসাইন, তৌসিফ মাহবুব, অভিনেত্রী ফারজানা ছবি, নৃত্যশিল্পী চাঁদনী, ‘রক্ত আলতা পায়’ গানের শিল্পী সোহাগ এস বি, অভিনেতা মুকিত জাকারিয়া, চিত্রনায়িকা দিঘী এবং সংগীতশিল্পী সিথি সাহা।
গ্রীনলিফ অ্যাওয়ার্ডের এবারের আয়োজনে বিনোদন জগতের পাশাপাশি মানবিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটসের যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া কমিটিকে দেওয়া হয় সেরা মানবিক সংগঠনের সম্মাননা।
এ ছাড়া স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান শাওন মজুমদার, ড্যান্স কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার আলমগীর হোসেন আলো, কোরিওগ্রাফার ইমরান আলীসহ কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ব্লগার ও বিভিন্ন পেশার প্রতিভাবানরাও সম্মাননা অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশের গুণী ও প্রতিভাবান মানুষদের কাজের স্বীকৃতি দিতে এ ধরনের আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও কলাকুশলীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
গ্রীনলিফ ম্যাগাজিনের সম্পাদক ও গ্রীনলিফ অ্যাওয়ার্ডের কর্ণধার তাসলিম হাসান হৃদয় বলেন, এবারের আয়োজন তাদের ধারাবাহিক কার্যক্রমের অষ্টম পর্ব। গুণী মানুষদের যথাযথ মূল্যায়ন করা সামাজিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিভাবানদের উৎসাহ ও স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের যথাযথ সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটানো জরুরি।
অন্যদিকে অনুষ্ঠানের সভাপতি মহিউদ্দিন আমিন বলেন, মানবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গেও ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেবে। গুণী ও প্রতিভাবানদের সম্মান জানানো সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তারকা শিল্পীদের উপস্থিতি, সম্মাননা প্রদান এবং বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয় গ্রীনলিফ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬-এর ৮ম আসর। আয়োজকদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এই আয়োজন দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, মানবিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

