
পশ্চিমবঙ্গে ভোট প্রচারণায় আবার ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আসানসোলের চুরুলিয়া সংলগ্ন এলাকায় ভোটের জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বলেছেন, ‘তোমরা বাংলা ভাষাতে কথা বললেই বলছো বিদেশি ভাষা। যে ভাষায় বাঙালি আন্দোলন করেছিল, ভারতের স্বাধীনতার জন্ম দিয়েছিল। আজ সেই ভাষাকেই কি অপমান করছো।’
কবির জন্মভিটে এলাকায় দাঁড়িয়ে মমতা বলেছেন, ‘তোমরা নজরুলকে বলছো কমিউনাল। যেই নজরুল ইসলাম শ্যামা সঙ্গীতের রচনা করেছিলেন। যে নজরুল গান গেয়েছিলেন, 'ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান/ আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়াছে তাঁরা, দিবে কোন বলিদান?' দেখাতে পারবে এই সম্প্রীতি?’
মমতা বলেন, ‘তার নামে আমরা অন্ডাল বিমানবন্দর করেছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। এবং আমরা তাকে যথাযথ সম্মান দিই। কারণ আমরা, কারার ওই লৌহ কপাট গান গেয়ে বড় হয়েছি। স্বাধীনতা আন্দোলনে রবীন্দ্র নজরুলের সৃষ্টি অনেক মানুষকে উৎসাহিত করেছিল।’
এরপরই মমতা বলেছেন, ‘বিজেপি রাজ্যগুলো লোক গেলেই এবং বাংলা ভাষায় কথা বললেই তাকে অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে। আর বিজেপি তুমি যত বহিরাগতদের পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসো’ তারা আমাদের রাজ্যে আমাদের জন্য অনুপ্রবেশকারী নয় কি?’
বাংলাদেশের নাম উহ্য রেখে, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতা বলেছেন, ‘বর্ডার কার হাতে? বিজেপি সরকারের হাতে।’ মমতা জনসভার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এবারের নির্বাচন কঠিন। এবারের নির্বাচন ঠিক করবে আগামী দিনে বাংলার মানুষের অস্তিত্ব থাকবে কিনা? পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের অস্তিত্ব থাকবে কিনা? হিন্দু ভাই-বোনের বাংলা ভাষা থাকবে কিনা?’
ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে মমতা বলেছেন, ‘তোমরা আজকে বাংলাকে দখল করার জন্য ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম্বার দিয়েছো। মনে রেখো এরপরও আমরা জিতবো।’
জনতার উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘কেন ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে জানেন, বিজেপি সরকারের পরবর্তী পরিকল্পনা হলো এনআরসি। ছ'বছর আগে আসামে এনআরসি করেছিল। সেখানে ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল। তাদের ডিটেনশন ক্যাম্প করে রাখা হয়েছিল। তার মধ্যে ১৩ লাখ হিন্দু ৬ লাখ মুসলমান ছিল। এটা আপনারা মাথায় রেখে দেবেন। তবে আমি বলে রাখি, তৃণমূল সরকার থাকতে পশ্চিমবঙ্গে কোন ডিটেনশন ক্যাম্প হবেনা। কিন্তু সেই জন্যেই বিজেপি চায় যেমন করেই হোক বাংলা দখল করার।’
মোদির নাম না নিয়ে মমতা বলেছেন, ‘যখন তুমি সৌদি আরব যাও, নবাবদের গলা জড়িয়ে ধরো। যখন দুবাই যাও কোলাকুলি করো তখন মনে থাকে না সে হিন্দু না মুসলমান? আসলে তোমরা পুরো গণতন্ত্রকে চৈত্র মাসের সেলের মত বিক্রি করে দিয়েছো। তবে আমরা আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব। লড়বো, গড়বো এবং এবারও জিতবো।’
সবশেষে মমতা বলেছেন, ‘বাংলা জিতে আমরা দিল্লিকে টার্গেট করব। এবং দিল্লি থেকে যতক্ষণ না তোমাদের সরাতে পারবো এই দেশ রক্ষা হবে না। এই দেশকে আমাদেরকেই রক্ষা করতে হবে।’
আমার বার্তা/এমই

