
রাজধানীর মিরপুর-১৫ নম্বরের বিজয় রাকিন সিটিতে প্রশাসনিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বাসিন্দাদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ‘মুক্তিযোদ্ধা অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটি’র সদস্যরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বর্তমান প্রশাসকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, চাঁদাবাজ চক্রের মদদ এবং নিরপরাধ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর কয়েক মাসে সমিতির ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। কারণ সমিতির নিয়মিত মাসিক ব্যয় মাত্র ২৫ হাজার টাকা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনও একই ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা বলেন, আগে এক প্রশাসক প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন এবং আরও অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করেন, যার মামলা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনে চলমান রয়েছে।
সমাবেশে জানানো হয়, বিজয় রাকিন সিটির মোট ১৯৫০টি ফ্ল্যাটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বৈধ মালিক রয়েছেন। কিন্তু একটি চক্র প্রশাসনের যোগসাজশে বৈধ চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়ে নতুনভাবে ফ্ল্যাট বিক্রির পাঁয়তারা করছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের উচ্ছেদ করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।
বক্তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে বলেন, প্রশাসনের কিছু ব্যক্তি সরকারের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। তারা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—বর্তমান প্রশাসকের অপসারণ ও বিচার, নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর, বৈধ মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্ত চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তারসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তারা মিরপুর রোড অবরোধ ও আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
আমার বার্তা/এমই

