
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের অত্যন্ত ব্যস্ততম গৌরনদী উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কসবা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়ায় এর ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় আরও চারজন যাত্রী আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে মো. ইলিয়াস হোসেন (৫৫)। অন্যজন হলেন মাইক্রোবাসের চালক মো. রিপন মাঝি (৪৫), যার বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নে।
গুরুতর আহতরা হলেন—মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মো. মনিরুজ্জামান মনি (৩৮), ঢাকার মুরাদপুর এলাকার নুরুজ্জামান (৪৬), বাগেরহাটের মোংলা এলাকার আব্দুল ওয়েজ (৩০) এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মো. শফিউল বাশার (৪০)। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) পাঠানো হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থাই বর্তমানে সংকটাপন্ন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের শব্দ এতই জোরালো ছিল যে আশেপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মাইক্রোবাসের সামনের অংশ চ্যাপ্টা হয়ে যায়।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার সময় খুলনাগামী ‘টেকেরহাট এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বরিশালগামী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে এবং চালকসহ ভেতরে থাকা ৬ জন যাত্রী আটকা পড়েন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাসের যন্ত্রাংশ কেটে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম শেখ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ইতিমধ্যে ঘাতক বাস এবং দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাস দুটি জব্দ করেছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচল বিঘ্নিত হলেও পুলিশের তৎপরতায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাসের চালক ও সহকারীদের আটকের চেষ্টা চলছে এবং এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিহতদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আমার বার্তা/জেএইচ

