
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের প্রভাব ইতোমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির বাজারে। ইতোমধ্যে জ্বালানি গ্যাসের দাম গত ৬ দিনে বেড়েছে ৭ শতাংশ, অদূর ভবিষ্যতে আরও বাড়বে— এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এই মুহূর্তে তিনি জ্বালানি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে একেবারেই চিন্তা করছেন না। তার সব মনোযোগের কেন্দ্র এখন ইরান যুদ্ধ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জ্বালানি গ্যাসের দামবৃদ্ধি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমি এ নিয়ে একেবারেই চিন্তা করছি না। এখন গ্যাসের দাম বাড়ছে, আবার যুদ্ধ শেষ হলেই দ্রুত দাম কমে যাবে। তাই গ্যাসের দাম যদি বাড়ে তো বাড়ুক। ইরানে এখন যুদ্ধ চলছে এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চেয়ে এটি অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ভূগর্ভস্থ জরুরি তেলের মজুত আছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই দুই অঙ্গরাজ্যে যে পরিমাণ তেলের মজুত আছে— তা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম জরুরি তেলের মজুত। তবে রয়টার্সকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত এই মজুত তিনি ব্যবহার করতে চাইছেন না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলেই বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার আবার আগের অবস্থায় ফিরবে এবং শিগগিরই তা ঘটবে। ৎ
“জ্বালানির বাজার চড়া থাকার প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কম হচ্ছে। তবে শিগগিরই এটি স্বাভাবিক হবে, কারণ অল্প সময়ের মধ্যে মার্কিন সেনা ইরানের নৌবাহিনীকে সাগরের তলায় পাঠিয়ে দেবে”, রয়টার্সকে বলেন ট্রাম্প।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
গত ৭ দিন ধরে যুদ্ধ চলছে এবং হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোতে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান।
সূত্র : সিএনএন, রয়টার্স
আমার বার্তা/জেএইচ

