
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বাউল গানের একটি আসরে হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করার ঘটনায় দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আপসে মীমাংসা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা যায়, গত ২২ মার্চ রোববার রাতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের ইব্রাহিম শাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় বাউল গানের আসরে হামলার ঘটনার একটি ভিডিও সোমবার ২৩ মার্চ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা নারায়ে তকবির, আল্লাহু আকবর ও ইসলামের শত্রুরা, হুশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দিতে দিতে লাঠিসোটা হাতে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর চালায়। তারা মঞ্চে থাকা বাদ্যযন্ত্র, সাউন্ড সিস্টেম ও দর্শনার্থীদের বসার চেয়ার ভেঙে ফেলে। আকস্মিক হামলায় আতঙ্কিত হয়ে আয়োজক ও মাজার ভক্তরা অনুষ্ঠানস্থল থেকে পালিয়ে যান। এতে পুরো অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। ভাঙচুর শেষে হামলাকারীরা মিছিল নিয়ে স্থান ত্যাগ করে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আয়োজকরা জানান, প্রায় ১০০ বছর ধরে ইব্রাহিম শাহ মাজারকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সময়ে বাউলগানের আসর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা অংশ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন রোববার রাতে হঠাৎ শতাধিক লোক সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে আসর পণ্ড করে দেয়।
ঘটনার পর মাজারের খাদেম দুদু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ১০০ বছর ধরে মাজারকে ঘিরে ওরস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কিন্তু রোববার রাতে এক ব্যক্তি তার সাঙ্গপাঙ্গ ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে এসে গানের আসরে হামলা চালান। তারা আগে কোনো অভিযোগ জানায়নি। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে পাশের একটি মসজিদের জানালার কাচ ভাঙচুর করে মাজারের ভক্তদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি মাজারের ভেতরে নয়, মূল ভেন্যুর বাইরে গ্রামের পাশে তৈরি করা একটি মঞ্চে গান-বাজনা হচ্ছিল। তাদের তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান ছিল। রোববার রাতে স্পিকারে বেশি শব্দে গান বাজানোর কারণে স্থানীয় মানুষের ঘুমে ব্যাঘাত হচ্ছিল। এ কারণে তারা এসে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি এবং আয়োজকরাও মামলা করবেন না বলে জানিয়েছেন। উভয় পক্ষই নিজেদের ভুল স্বীকার করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।
আমার বার্তা/এমই

